করোনায়ও মাথা উঁচু করে আছে যে দেশ

করোনা মহামারি পুরো বিশ্বকে বিপর্যস্ত করার আগে বিপর্যস্ত করেছিল চীনকে। কিন্তু সবাইকে পেছনে ফেলে প্রথমেই ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে এ দেশ। যেখানে বিশ্বের অন্য সব দেশ মন্দা থেকে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে ব্যস্ত, সেখানে চীন দেখছে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির মুখ।

বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশই শুধু ঠেকাতে পেরেছে মন্দার প্রকোপ। যেখানে লকডাউন আর ব্যবসায় মন্দায় বিপর্যস্ত ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রসহ সব দেশ।

যেখানে পুরো বিশ্বের অর্থনীতি ৫ শতাংশের ওপরে সংকুচিত হবে, সেখানে বছর শেষে শুধু চীনের প্রবৃদ্ধি হবে দেড় শতাংশের বেশি। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। লকডাউন কঠোর আর ভাইরাস বহনকারী মানুষ ট্র্যাক করার মধ্য দিয়ে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে চীনে করোনা মহামারি। পাশাপাশি অবকাঠামো প্রকল্পের জন্য কোটি কোটি ডলার বরাদ্দ রেখেছে চীন সরকার। সাধারণ মানুষকে দিয়েছে প্রণোদনা। করোনার প্রকোপ কমায় ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দেশটির পর্যটন খাতও।

২০২০ সালের শেষ নাগাদ চীনের জিপিডি প্রবৃদ্ধির আকার হবে সাড়ে ১৪ ট্রিলিয়ন ডলার, যা বিশ্বের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাড়ে ১৭ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্যান্য দেশের চেয়ে চীন খুব দ্রুত এবং শক্তিশালী হয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।

গত সপ্তাহকে পর্যটনের জন্য স্বর্ণ সপ্তাহ বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটির পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বলছে, অন্তত ৬৩ কোটি পর্যটক চীনে ভ্রমণে এসেছে। চলতি বছর ভ্রমণে খরচ বেড়েছে ৭ হাজার কোটি ডলার। এর মধ্যে এক সপ্তাহে মুভি টিকিট বিক্রি হয়েছে ৫৮ কোটি ডলারের।

সেবা খাতও এগিয়ে যাচ্ছে। গত সপ্তাহের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত ৭ বছরের মধ্যে চলতি বছরই দেশটির সেবা খাতের কার্যক্রম সর্বোচ্চ হয়েছে। বাড়ছে ভোক্তা খরচ। এক দশকে উৎপাদন খাতও সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধিতে আছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষাপণ্য রফতানিতে সারাবিশ্বের চেয়ে এগিয়ে আছে চীন। চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশটিতে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ। যুক্তরাষ্ট্র চীনের বাণিজ্যিক দ্বন্দ্বের মধ্যেও চীনে অব্যাহত আছে মার্কিনিদের বিনিয়োগ।

তবে মহামারি অন্যান্য দেশের মতো চীনের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকেও বিপাকে ফেলেছে। মহামারিতে লাখ লাখ মানুষ এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে গেছে চাকরির সন্ধানে।

অন্তত ৮ কোটি মানুষের চাকরি নেই দেশটিতে। ৯০ লাখ মানুষ শিগগির চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় নামবে। চীনের স্বল্প আয়ের মানুষ, যাদের বার্ষিক আয় প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ডলার, তাদের অবস্থা আরও করুণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুরে দাঁড়ানোর যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, সেটি ধনী জনগোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করেই হচ্ছে। চীন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব যদি যুক্তরাষ্ট্র চলমান রাখে, তাহলে পিছিয়ে পড়বে মার্কিনিরাই। ২০৪০ নাগাদ অনেকটাই পিছিয়ে পড়বে চীনের থেকে। উন্নত দেশগুলো যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক বজায় রাখে, তাহলে পিছিয়ে পড়বে চীন।

somoynews

About admin

Check Also

ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েও খামারি আতিকুল, মাসে আয় ১০ লাখ টাকা

প্রকৌশলী হয়েও কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পেয়ে গবাদি পশুর খামার গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেন আতিকুর রহমান। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *